• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ উত্তোলন করতে দেয়নি পরিবার

সিসি নিউজ।। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনে বাধা দিয়েছে তার পরিবার। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মরদেহ উত্তোলন করতে গেলে মামলার বাদী শহীদের বাবা আলমগীর হোসেন ও তার পরিবারের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ উত্তোলন করতে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকার হাতিখানা কবরস্থানে আসেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর-ই আলম সিদ্দিকী। সে সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মাহবুব উল্লাহ সরকার, মামলার বাদী নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন, ছাত্র প্রতিনিধি, সৈয়দপুর থানা পুলিশ, নিহতের স্বজনরা।

জানা যায়, দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ উত্তোলনের জন্য সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা কবরস্থানে এলে পরিবারের সদস্যরা ও মামলার বাদী আপত্তি জানান। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব উল্লাহ সরকার নিহতের স্বজনদের মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি অবগত করেন। কিন্তু শহীদ সাজ্জাদের বাবা আলমগীর হোসেন ও স্বজনরা কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন না করার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর-ই আলম সিদ্দিকীর বরাবরে আবেদন জানান। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ স্থগিত করে সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ উত্তোলন না করে চলে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বাকিরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মাহবুব উল্লাহ সরকার সিসি নিউজকে বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ আগষ্ট থানায় দায়েরকৃত মামলা (নং ০৪) সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশে সাভারে নিহত শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ উত্তোলনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমরা সৈয়দপুরের কবরস্থানে গিয়েছিলাম। কিন্তু মামলার বাদী নিহতের বাবা ও তার পরিবারের আপত্তি কারণে মরদেহ উত্তোলন না করেই চলে আসতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর-ই আলম সিদ্দিকী সিসি নিউজকে বলেন, বিজ্ঞ আদালত থেকে শহীদ সাজ্জাদের মরদেহ উত্তোলনের জন্য আমাকে নিয়োগ করা হয়। আদালতের নির্দেশে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে যাই। কবরস্থানে মামলার বাদী ও শহীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনে অনিচ্ছুক। উনারা আমার কাছে একটি ফরমাল আবেদন দিয়েছেন। এ বিষয়টি আমরা বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করব এবং পরে আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, উল্লেখ্য, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুরের আলমগীর হোসেন ও শাহীদা বেগম দম্পতির তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সাজ্জাদ ছিলেন বড়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি (এএমটি) ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে সাভারের কলমার দক্ষিণ আউকপাড়ার স্বপ্নপুরী হাউজিংয়ের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন আলমগীর হোসেন। সাভার থেকেই মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে যেতেন সাজ্জাদ। পরিবারকে সাহায্য করতে গাজীপুরের মাওনায় একটি কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরিও নিয়েছিলেন।

৫ আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠেই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আন্দোলনে অংশ হতে বাসা থেকে বের হয়ে যায় সাজ্জাদ। দুপুরে ভাইয়ের ফোন থেকে ছোট বোন নিশাতের কাছে ফোন করে অপরিচিত এক ব্যক্তি খবর দেয় সাজ্জাদের গুলি লেগেছে এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সাজ্জাদের বাবা মেয়েকে নিয়ে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে দেখতে পান ছেলেকে। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে মারা যান সাজ্জাদ।

পরে সাভারের কলমায় প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিয়ে আসা হয় সাজ্জাদের মরদেহ। গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ আগষ্ট শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেন নিজে বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ০৪)।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ